বেআইনি শ্রমিক আন্দোলনের জেরে বন্ধ ঝাপড়ার প্ল্যান্ট, শ্রম দপ্তর ও বিএমএস-এর তৎপরতায় কাটল জট

Purulia (Somnath Hope) : এলাকার একটি অসংগঠিত বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের দাপটে তৈরি হওয়া দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটল পুরুলিয়ায়। জেলা শ্রম দপ্তর (DLC) এবং ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ (BMS)-এর যৌথ মধ্যস্থতায় অবশেষে পুনরায় চালু হলো পাড়া থানা এলাকার ঝাপড়াতে অবস্থিত ‘রেডিকেম পিগমেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ কারখানা। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে কারখানাটি আচমকা বন্ধ হয়ে থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল প্ল্যান্ট এর শ্রমিকের। শেষমেশ আলোচনার টেবিলে আইনি জট কেটে যাওয়ায় আজ, বুধবার সকাল থেকেই কারখানায় উৎপাদন কাজ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়েছে। কোনও বৈধ নথিপত্র বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই এলাকার একটি বামপন্থী অসংগঠিত শ্রমিক সংগঠন বিগত কিছুদিন ধরে কারখানায় অচলাবস্থা তৈরি করেছিল। যার জেরে বন্ধ হয়ে যায় প্ল্যান্টটি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষপর্যন্ত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে জেলা শ্রম দপ্তর ও ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ। গতকাল, মঙ্গলবার ম্যারাথন বৈঠকের পর কেটে যায় সমস্ত জট। কারখানা চালুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই আজ সকালবেলা রেডিকেম পিগমেন্টস কারখানার মূল গেটের সামনে এক বিজয় উল্লাসে মাতেন শ্রমিকেরা। সেখানে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন বিএমএস নেতৃত্ব। দীর্ঘদিন পর কারখানা খোলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রেডিকেম পিগমেন্টস-এর ডিরেক্টর নন্দন আগরওয়াল জানান, কিছু সম্পূর্ণ অযৌক্তিক কারণে আচমকাই তাদের এই প্ল্যান্টটি বন্ধ হয়ে পড়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তারা লেবার কোর্ট এবং ডিএলসি (DLC) অফিসেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেখানে শ্রমিক ও ম্যানেজমেন্ট পক্ষের টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। উভয় পক্ষের সমস্যা মিটিয়ে প্ল্যান্টটি পুনরায় চালু করতে বিএমএস বড় সহযোগিতা করেছে বলে তিনি স্বীকার করে নেন। অন্য দিকে, আজ কারখানার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক সুশান্ত মাহাতো বলেন, একটি সংগঠন সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে এখানে অশান্তি পাকিয়ে কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা বিএমএস-এর পক্ষ থেকে ডিএলসির দ্বারস্থ হই। উনাদেরই তত্ত্বাবধানে শ্রমিক ও মালিক পক্ষকে এক টেবিলে বসিয়ে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে গতকাল এই জট মেটানো সম্ভব হয়েছে। আজ সকাল থেকে প্ল্যান্ট সম্পূর্ণ সচল এবং এতে দুই পক্ষই খুশি।
এদিন কারখানার জট মেটানোর পাশাপাশি পুরুলিয়া জেলার সামগ্রিক কর্মসংস্থান ও বন্ধ কারখানা খোলার বিষয়ে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে জোরালো বার্তা দিয়েছেন বিএমএস নেতৃত্ব। জেলার পিছিয়ে পড়া অর্থনীতি ও পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুশান্ত বাবু বলেন, পুরুলিয়া একটি পিছিয়ে পড়া জেলা। বিগত দিনে এখানে সেই অর্থে বড় কোনও শিল্প আসেনি। আমাদের প্রায় 50 হাজারেরও বেশি তরুণ ও শ্রমিক ভাই পেটের তাগিদে ভিন রাজ্যে পড়ে রয়েছেন। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করব, যাতে পুরুলিয়ার দিকে বিশেষ নজর দিয়ে এখানে নতুন নতুন কারখানা ও প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হয়, যাতে আমাদের যুবকেরা নিজের জেলাতেই রুজি-রুটির সংস্থান করতে পারেন।
আপাতত একটি অনথিভুক্ত সংগঠনের তৈরি করা অচলাবস্থা কাটিয়ে, সংঘাতের পথ এড়িয়ে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় কারখানা খোলায় বড়সড় স্বস্তি ফিরল শিল্পমহলে।



